রাজধানী ঢাকার ৩৮নং কাউন্সিল অফিসে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান

প্রাণতোষ তালুকদার

রাজধানী ঢাকার ৩৮নং কাউন্সিলর অফিসে পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) আয়োজিত ৩৮নং ওয়ার্ডের “দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলার প্রস্তুতি ও সাড়াদান সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওয়ার্ড ও জাতীয় পর্যায়ে পদ্ধতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা ও সমন্বয় কৌশল উন্নতকরণ এবং কীভাবে ভূমিকম্প, অগ্নিসংযোগ ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি হ্রাস করা যায় -এ নিয়ে চারদিনব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে।

গত ১০-১৩ মার্চ, ২০১৮ তারিখে ৩৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীকে ৩৮ নং ওয়ার্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির পদ মর্যাদা দিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়। এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে ৫০(পঞ্চাশ) জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে ভূমিকম্প ও অগ্নিসংযোগের ওপর ট্রেনিং দেয়া হয়।
পিএসটিসি কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ হচ্ছে, নগরভিত্তিক দুর্যোগ বিশেষত ভূমিকম্প এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি হ্রাসে রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ নীতিমালা, কাঠামো এবং পরিকল্পনার আলোকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ।

সংগঠনের প্রধান কার্যক্রম সমূহ:

(১) সমাজভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতি মডেল বাস্তবায়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি শক্তিশালীকরণ।

(২) বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ প্রদান।

(৩) নগর ঝুঁকি নিরূপণ, কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদ, প্রণয়ন ও ঝুঁকিহ্রাস কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন (যেমন: রাস্তাঘাট, পানি ও পয়:নিষ্কাশন অবকাঠামো)।

(৪) দুর্যোগ প্রস্তুতিতে সচেতনতা বৃদ্ধি (যেমন: স্কুল ও কমিউনিটি সেশন, বিশেষ দিবস পালন, মহড়া)।

(৫) জরুরী মুহূর্তে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রশিক্ষণ প্রদান।

(৬) দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে বিদ্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্কুলে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন।

(৭) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নিশ্চিতকরণ।

(৮) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রসারতা বৃদ্ধি।

ভূমিকম্পে নিরাপদ থাকার উপায়গুলো—ভূমিকম্পের আগে যা যা করা দরকার:

(১) জরুরী যোগাযোগের নম্বরগুলো লিখে রাখা।

(২) বাড়ির নিরাপদ জায়গাগুলো চিনে রাখা।

(৩) ভারি আলমিরা, শোকেস ইত্যাদি দেয়ালের সাথে আটকে রাখা।

(৪) ভারি আসবাবপত্রগুলো উপরের তাক থেকে নিচে নামিয়ে রাখা।

ভূমিকম্প চলার সময় যা যা করা দরকার:

(১) আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি না করে শান্ত থাকা।

(২) ঘরের কোনো নিরাপদ স্থানে—যেমন, পিলারের পাশে বা বিমের নিচে অবস্থান নেয়া।

(৩) আঘাত থেকে রক্ষা পেতে ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত দুহাত বা বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে খাট ও টেবিলের নিচে বসে থাকা।

(৪) কাঁচের জানালা ও ভারি আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকা।

ভূমিকম্প থেমে যাবার পর যা যা করা দরকার:

(১) শান্ত ও সারিবদ্ধভাবে ভবনের বাইরে বেরিয়ে আসা

(২) দালান, বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিলবোর্ড, বড় গাছ ইত্যাদি থেকে দূরে খোলা স্থানে অবস্থান নেয়া।

(৩) ভাঙ্গা কাঁচ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি থেকে দূরে থাকা।

(৪) কম্পন পুরোপুরি থেমেছে কিনা নিশ্চিত না হয়ে পুনরায় ভবনের ভেতরে প্রবেশ না করা।

দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য কার্যক্রম ৩৮নং ওয়ার্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বিস্তারিত তথ্যউপাত্তের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) এর কর্মকর্তাগণ।

আলোচনা অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন পিএসটিসি কর্মকর্তা—প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ইকবাল হাসান, ফিল্ড অফিসার সুবর্ণা, ফিল্ড অফিসার সাইদুর নাহার, প্রজেক্ট অফিসার নাজমুল কবির ও রাজনৈতিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

You may also like...