আমার ভালোবাসার সাতকাহন // দাদাভাই

মহামায়ার এক কাহন আজ আমি তোমায় কিছু বলি পারলে মন দিয়ে অনুধাবন করো, বাকিটা তোমার ইচ্ছা।


তুমি কি জানো সামান্য প্রদীপের আগুনে চোখের পলক পরিমান সময় হাত রাখা কতোটা কষ্টের? জানতেও পারো! ১৯ টা বছর মানে পুরো ১ টা যুগ ৭ টা বছর ২২৮ টা মাস ৬৮৪০ টা দিন ১৬৪১৬০ টা ঘন্টা ৯৮৪৯৬০০ টা সেকেন্ড পবিত্র এক অগ্নিশিখায় প্রজ্বলিত একটা স্বশ্রদ্ধ নতজানু বিনয়াবনত কিন্তু প্রখর তাপপূর্ণ প্রদীপ জ্বেলে রেখেছি আমার হৃদয় মন্দিরে, যেখানে তুমি আসোনি কোনো এক মুহুর্তের জন্যে ঘুরে দেখতে, দেখোনি কখনো এত দীর্ঘ সময় সেই প্রদীপশিখার তাপে পুড়ে আমি কতোটা অঙ্গার হোয়েছি।

সমাজের গুষ্টিরপিণ্ডি—সেতো আমি অনেক আগেই করেছি, কিন্তু তুমি পারোনি আমার সামান্য থেকে সামান্য দুর্বলতা কে মেনে নিয়ে বাস্তব জীবন উপভোগ তো দূরের কথা সামান্য উপলব্ধি পর্যন্ত করতে। যানি না সৌভাগ্য কার? যাকে এতো পূতপবিত্র সম ভালো আমি যাকে বেসেছি তার? নাকি যে আরো আমৃত্যু ভালো বাসতে চায় তার? যতসামান্য নৈতিকতার কথা বলায় ভীষণ গুরুদণ্ড শাস্তি দিয়েছো, সহ্য করে থাকতে পেরেছি, কারণ, আমাকে যে আরো সহ্য করতে হবে তাই ভেবে, আমৃত্যু ভালোবাসার পণ করেছি এতটুকু শাস্তি তো লঘু দণ্ডই মনে হয় আমার কাছে। যতোবার তোমার কথা ভেবেছি বলছি না যে জীবনে সারাক্ষণ শুধু তোমার কথাই ভাবি তবে যতোবার ভেবেছি তোমার সুখ ছাড়া আর কিছু চিন্তা করতে পারিনি, তোমার মুখে যাতে হাসি থাকে তা নিয়ে অনেক চিন্তা ফিকির করেছি যার সিকিভাগও যদি মা-বাবা ভাই-বোনদের নিয়ে করতাম লক্ষ লক্ষ গুণ বেশি হোয়ে তা ফেরত আসতো আমার সম্মুখে। আর ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট—সেতো তোমার অভিলাসি সুখ, ষোলআনা বুঝে নাও ঠিকই, কিন্তু বোঝাও না এক রত্তিও।

জানো আমার না ছোটবেলা থেকেই শ্যামলা রঙের মানুষ খুব পছন্দ, কিন্তু কেন জানি তুমি ধবধবে ফর্সা বর্ণের হওয়া সত্ত্বেও তোমার মায়ায় আটকা পড়ে যাই। যার কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে আছে কিনা আমি জানি না, যুক্তি শুধু এতোটাই যে ভালোবাসি এবং ভালোবাসতে হবে, যতদিন দেহে প্রাণ রবে। চিন্তা-চেতনা মন ও মননে তুমি খুবই উন্নত প্রজাতির এক মহীয়সী মানুষ, যার সাথে পাল্লা দিয়ে পেরে ওঠা আমার পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার। রিযিকের মালিক আল্লাহ, তাই হয়তো তোমারই ওছিলায় ভুখা পেয়েছে অন্ন, নাঙ্গা পেয়েছে কিছু বস্ত্র, আজ তোমায় দিব্বি করে বলে রাখি আল্লাহ যদি আমাকে সামর্থ দান করেন তোমার নামে বৃদ্ধাশ্রম খুলে দেবো যেখানে থাকবে না তোমাদের এই জাতি ভেদাভেদ ইনশাহআল্লাহ।

জাত ভেদাভেদটা তোমাদের মতন জ্ঞানি লোকেদের মানায় আমাদের মতন হাবাগোবাদের মানায় না, কারণ, আমরা এগুলো বুঝি না। গল্পে, আড্ডায়, ডায়েরিতে অথবা মিডিয়ায় বেশ অসাম্প্রদায়িক কিংবা মানবধর্মের কথা বলে যে কোন ধর্মকে ধরাশায়ী করে দাও তোমরাই, কিন্তু যখন ধর্মীয় উৎসবগুলো আসে তার রস একেবারে পুরোটাই নিগড়ে নাও, যাকে মানতে এতো অনিহা তাকে কেন্দ্র করে উৎসবে কেন এতো মাতোয়ারা? প্রসঙ্গ কিছুটা ঘুরিয়ে আনলাম কারণ, নিজেকে চেনার প্রয়োজন আছে। ঘোরের মায়াজালে তুমি এতোটাই প্রভাবিত যে আজ তুমি নিজেকে চিনতে অন্যের সাহায্য লাগে।

ভালোবাসা নিয়ে বেশ দাতভাঙা তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করো দেখি মাঝে মাঝে প্রকৃত নিস্বার্থ ভালোবাসার মূল্যায়ন করতে পেরেছো কতখানি? পারলে উত্তর দিও। এখনো হৃদ স্পন্দন চলমান, তাই এখনো বলতে পারি ভালবাসি আমি তোমায় তোমার থেকেও বেশি, প্রতিদানের অপেক্ষায় ভালবাসিনি, ভালবসেছি তোমার জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তোমাকে শুখে দেখার আশায়, তবে আমার ভালোলাগা তোমার কাছে কি’বা আসে আর কি’বা যায়! অবজ্ঞায় হলেও ভালোবেসো, যাকে ভালোবাসো অন্তত সেই প্রাণীটি সাচ্ছন্দে মৃত্যুর কোলে মাথা রেখে জীবনাবসান ঘটাতে পারে, তুমি যাকে ভালোবাসো অবশেষে সে আমারও ভালবাসা—কেননা আমিতো তোমার ভালোলাগাকে ভালবাসি, আমি নির্দ্বিধায় স্বচিত্তে বলতে পারি আমি তোমায় ভালোবাসি তোমার জন্যে, আমার ভোগের বিন্দু পরিমাণ ভাগ তুমি এখানে পাবে না।

তবে আবারো বলি—আমি আজো ঠায় দাঁড়িয়ে দুপায়, নিঃশ্বেষ হোয়ে ফিরে আসো যদি আশিটি বছরও যায়, মেনে নিতে সদা প্রস্তুত আমি জাত বেজাতকে মাড়িয়ে দুপায়। শাষণ করা তারই সাজে ভালো বাসে যে, উপরিউক্ত কথাগুলোয় যদি কষ্ট পেয়ে থাকো নিজগুনে ভুলে গিয়ে নিজেকেই শুধ্রাবার চেষ্টা করো। জানো আমি তোমাকে দেখেই শিখেছি নারী কত নিবীড়ভাবে ভালোবাসতে পারে তার ভালোবাসাকে, জেনেছি তাও তোমার অজান্তে। তোমার উদারতার বিশ্লেষণ করবার ক্ষমতা আমার নেই, দীর্ঘ সাতারোটি বছর লেগেছে তোমার চোখের দিকে চোখ উঠিয়ে তাকাতে! আর তোমায় নিয়ে এরকম চিন্তা? সেতো একেবারেই দুঃসাহসিক সাধ্যসীমার উর্দ্ধে, এতো এককাহন—এখনো তোমায় নিয়ে লিখতে বাকি হাজার কাহন। ভালো থেকো, সর্বদা এই কামনায় ছোট্ট একটা বিরতি নিচ্ছি। আজ চলে যাচ্ছি, তবে যাচ্ছি না, আবার ফিরে আসবো তোমায় নিয়ে আবিরাম ধ্যানামৃত অগোছালো গুচ্ছকাহন নিয়ে।


ইতি তোমার #দাদাভাই

You may also like...