মানবিক একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনিও আমাদের সাথে থাকুন


আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু অর্থাভাবে পারছি না। আমাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে, কিন্তু পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগছে না পরিকল্পনা মতো আমরা কাজ করতে পারছি না বলে। আমাদের মাথার উপর কেউ নেই, কাউকে আমরা রাখতেও চাই না, তবে আমরা সাথে রাখতে চাই সবাইকে—যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করে, মুক্তবুদ্ধি এবং মুক্তপথের প্রয়োজনিয়তা বুঝতে পারে।

যে প্রতিবেদনগুলো আমরা তৈরি করতে চাই, যে গবেষণাগুলো আমরা করতে চাই, গণমানুষের নাবলা যে কথাগুলো আমরা বলতে চাই তা আপনারই কথা। অামরা গ্রামীণ বাংলাদেশকে অস্বীকার করতে চাই না, গ্রামের মানুষের পরিশ্রম এবং অাত্মত্যাগের বিষয়টি আমরা নিয়মিতভাবে তুলে আনতে চাই। পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। প্রতি মাসে দেশের যেকোনো অঞ্চলের পাশাপাশি কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি ফিচার করার পরিকল্পনা আমাদের থাকলেও অর্থাভাবে আমরা গ্রামে প্রতিবেদক পাঠাতে পারছি না।

পাশাপাশি কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিচার তৈরি করে প্রকাশ করতে বেশ কিছু টাকা খরচ হয়। কিন্তু টাকাটা আমরা যোগান দিতে সক্ষম হচ্ছি না। আমাদের কোনো বিজ্ঞাপনী উপার্জন নেই, গুগল এডসেন্স থেকেও উল্লেখ করার মতো কোনো রেভিনিউ আসছে না, ফলে আমরা কাজ করতে সমর্থ হচ্ছি না ঠিকমতো। 

পত্রিকাটির কোনো মালিক নেই। যারা এখানে কাজ করে এবং করবে তাঁরা সবাই মালিক। একক মালিকানা বা পত্রিকা চালিয়ে মুনাফা করার নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। রাজনৈতিক মতাদর্শ ব্যক্তির থাকতে পারে, তাই বলে পত্রিকার কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে বলে সম্মিলিতভাবে তা আমরা মনে করি না। একটি পত্রিকা হবে শুধুই গণমুখী এবং জনকল্যাণমূলক। 

দেশে বেশিরভাগ খবরেরই কোনো ফলোআপ থাকে না। আমরা ফলোআপ নিউজ করতে চাই। খুব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সম্পর্কে পূনরায় খোঁজখবর নিতে চাই। বড় বড় দুর্নীতিগুলো শুধু নয়, ছোট ছোট দুর্নীতিগুলোও মারাত্মকভাবে জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা পেতে—সরকারি অফিশে, আদালতে, থানায় মানুষ নাজেহাল হচ্ছে—খবরগুলো আমরা ধারাবাহিকভাবে তুলে আনতে চাই।

নারী এবং শিশুর উপর নিপীড়ণের বিষয়গুলো আমরা বিশেষ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করতে চাই। শুধু ঘটনা ঘটলেই নয়, আমরা শ্রমজীবি এবং কর্মজীবি নারী এবং শিশুদের সাথে নিয়মিত কথাবার্তা বলতে চাই, খোঁজখবর রাখতে চাই। শিশু গৃহকর্মীদের উপর নজর রাখতে চাই। শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরতে চাই পত্রিকাটির মাধ্যমে।  

কেউ সফল হলে পত্রিকার পাতায় তাকে নিয়ে খবর হয়, কিন্তু অনেকেই অাছে যারা বিশেষ কিছু করার চেষ্টা করছে—তাঁদের নিয়ে খবর হওয়া প্রয়োজন, তাহলে তাঁরা আরেকটু সহজে, আরেকটু আগে কাজটা করতে পারবে। হাতে সময় থাকবে তখন, কাজের সফলতাটুকু জনগণের দোড়গোড়ায় নিয়ে যাওয়ার সময় পাবে ব্যক্তি। আমরা এ ধরনের খবরগুলো প্রকাশ করতে চাই।

ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, কিন্তু ব্যাংক ব্যবস্থাপনা নিয়ে, লেনদেন নিয়ে খুব কম খবরই পত্রিকায় আসে। সাধারণত লোন সংক্রান্ত কিছু খবর পত্রিকায় আসে, সেটিও খুব সামান্য। পাশাপাশি ব্যাংকে কীভাবে কত টাকা গচ্ছিত থাকছে, কারা কীভাবে সেখানে টাকা রাখছে, এ সংক্রান্ত খবরগুলো পত্রিকাতে আসা খুব জরুরি। বর্তমানে যেকোনো বড় দুর্নীতির সাথে ব্যাংকের একটি যোগ থাকে, তাই ব্যাংক ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনার উপর সবসময় আমরা দৃষ্টি রাখতে চাই।

শিক্ষা ব্যবস্থায় চলে তুঘলকি কাণ্ড। স্কুল কলেজগুলোতে পড়াশুনা হয় না বললেই চলে। বিপরীতে প্রাইভেট টিউশনি এবং কোচিংয়ের রমরমা ব্যবসা চলে। সত্যি কথা বলতে—বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাসের অবস্থাও তথৈবচ, সেখানেও সিলেবাসভিত্তিক মুখস্থবিদ্যা। অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে সার্টিফিকেট কেনাবেঁচা, এই দিকটির ওপর আমরা আলোকপাত করতে চাই। আমার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মতামত তুলে আনতে চাই।

গার্মেন্টস সেক্টর বিশাল একটি সেক্টর। কার্যত এ সেক্টরটি চলছে নারী শ্রমিকদের দ্বারা। কর্মসংস্থান হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু সেটি কি আদৌ কর্মসংস্থান হয়েছে, নাকি আধুনিক দাস প্রথায় পরিণত হয়েছে?—সেদিকটাও উঠে আসা দরকার। প্রত্যেকটা ধনী দেশ তাঁদের দেশে এই শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করাতে গেলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো, বেতনও দিতে হতো অনেক বেশি, সেক্ষেত্রে আমাদের জায়গায় রেখে কাজ করিয়ে নিয়ে তাঁরা ব্রান্ড তৈরি করছে, প্রয়োজন মেটাচ্ছে। কিন্তু আমাদের শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবনমান কি নিশ্চিত হয়েছে? বিষয়গুলোর উপর আমরা আলোকপাত করতে চাই।

শুধু গার্মেন্টস খাত নয়, প্রাইভেট সেক্টরের শ্রমিক এবং চাকরিজীবিরা খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে, কারণ, বেশিরভাগ সময় নির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখপূর্বক কোনো নিয়োগপত্র তাঁদের দেয়া হয় না, ফলে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ন্যয্য দাবী করার মতো কোনো সুযোগ থাকে না। যেকেনো সময় তাঁদের চাকরি চলে যেতে পারে। ঠিকমতো বেতন দেয়া হয় না, বোনাস দেয়া হয় না, নিয়মমেনে ওভারটাইমের পারিশ্রমিক দেয়া হয় না। ওভারটাইম করতে বাধ্য করে অনেক প্রতিষ্ঠান। এমনভাবে বেতন ধরা হয় তাতে ওভারটাইম করতে বাধ্য হয় শ্রমিকরা, ফলে তাঁদের জীবনে অবসর বলে কিছু থাকে না। 

শ্রমআইন বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই মানে না, সরকারেরও এ বিষয়ে তেমন কোনো ভাবনা আছে বলে জানা যায় না। কোম্পানি তাঁর লভ্যাংশের ৫শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করছে কিনা—সে বিষয়টিও উন্মুক্ত নয়। সরকারের উচিৎ কোম্পানিগুলোকে বাৎসরিক ব্যালান্সসিট (আয়-ব্যয়ের খতিয়ান) গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে বাধ্য করা। জনগণের এটি জানার অধিকার আছে। কিন্তু সরকার সেটি করে না। এরকম অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট হলেও আমরা জনগণ হিসেবে তা জানি না, জানতে দেয়া হয় না। 

সিস্টেমের সাথে খাপ খাইয়ে চলে, নুইয়ে চলে, শুধুমাত্র বস্তুগত এবং ভীষণভাবে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে চলে, ভাগ বসিয়ে চলে বড় হওয়া মানুষদের কথা শুধু নয়; আমার স্রোতের বিপরীতে চলা, ব্যাক বেঞ্চার, খাপ খাওয়াতে না পারা মানুষদের কথাও প্রকাশ করতে চাই। তীব্র প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যারা পৌঁছে যাচ্ছে অভিষ্ট লক্ষ্যৈ তাঁদের কথা বলা প্রয়োজন, তবে সেটি বলার মতো গণমাধ্যমের অভাব নেই; কিন্তু ভয়ঙ্কর প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে সকল চেষ্টা সত্ত্বেও লক্ষ্য হতে সামান্য ব্যবধানে থেকে যারা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হচ্ছে এমন মানুষদের কথাও আমরা বলতে চাই। 

বর্তমানে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যবসা করছে সকল দেশে, কিন্তু তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালন যথেষ্ট করছে বলে মনে করার কোনো কারণ দৃশ্যমান নেই। কী পণ্য বের করা উচিৎ এবং কী পণ্য বের করা উচিৎ না, বিজ্ঞাপন এবং বিপণন ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিৎ—সেটি একটি বড় কোম্পানি মাথায় রাখতে পারে, শুধু ব্যবসার জন্য একটি বহুজাতিক কোম্পানি পরিচালিত হওয়া উচিৎ নয় বলে আমরা মনে করি।  আমরা বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখতে চাই বিভিন্নভাবে, কারণ, কার্যত পৃথিবীর অর্থনীতি এবং শাসন ব্যবস্থায় তাদের প্রভাব প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ দুইই। বিশেষত তাঁদের অদৃশ্য পরোক্ষ প্রভাব  রয়েছে, কখনো কখনো তা গণমানুষের মতপথ উল্লেখযোগ্য হারে পাল্টে দিতে সক্ষম।

গুগল এবং ফেসবুকের মতো জায়ান্ট আইটি ফার্মের কর্তাব্যক্তিরা আগামী পৃথিবীটাকে কোথায় কীভাবে দেখতে চান—তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। আমরা তাঁদের কাজগুলো পর্যালোচনা করতে চাই। প্রযুক্তির সুবিধা দেশের সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় কতটা পৌঁছালো সে বিষয়টির প্রতি নজর রাখা বর্তমানে গণমাধ্যমের একটি বড় দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি, যদিও মূল কাজটি করবে সরকার।

অামরা বলতে চাই সুন্দর বাংলাদেশের কথা। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মানুষের সরলতা এবং আতিথেয়তার দিকটি আমরা তুলে আনতে চাই। গ্রামগঞ্জে সামান্য সম্পদ ভোগ করে যারা তৃপ্ত জীবনযাপন করছে, তাঁদের হাসিমাখা মুখটি বিশ্ববাসীর কাছে আমরা পৌঁছে দিতে চাই, এজন্য আমাদের সাইটটির একটি ইংরেজি ভার্সনও রয়েছে, যেটির সমৃদ্ধির জন্য অামাদের কাজ করা প্রয়োজন।

এসকল কিছুর জন্য আমরা শুধু পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উপরই নির্ভর করতে ইচ্ছুক। আমরা বিজ্ঞাপনের জন্য ঘুরে সময় নষ্ট করতে চাই না, শর্ত সাপেক্ষে কোনো বড় অনুদানও নিতে চাই না। কারো লেজুড়বৃত্তি বা তোষামোদী করে উপার্জন করতে চায় না পত্রিকাসংশ্লিষ্ট কেউই। আমরা চাই গণমানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থায়নে পত্রিকাটি চালাতে।

আশাকরি আপনাদের কাছ থেকে আমরা সাড়া পাব। ১০০টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অংকে আপনি অনুদান দিতে পারেন। সাইটটির কাছ থেকে আপনার প্রত্যাশার কথা জানাতে পারেন। আর অবশ্যই অপনার মূল্যবান মতামত জানাবেন কমেন্ট বক্সে বা ফোন করে। পত্রিকাটিতে যুক্ত হচ্ছে একদল মানবিক মানুষ, যারা গাড়ি-বাড়ির স্বপ্ন দেখে না, প্রয়োজন হলে জঙ্গলেও ঘুমোতে পারে, শুধু বেঁচে থাকার জন্য খেলে তাঁদের চলে—যারা স্বপ্ন দেখে এমন একটি বাংলাদেশের যেটি মানবিক মূল্যবোধে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আমরা চাই পৃথিবীর পিছিয়ে থাকা প্রতিটি দেশ এগিয়ে যাক, পৃথিবীটা সত্যিকার অর্থে মানুষের বাসযোগ্য একটি গ্রহ হোক।

ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে নেয়ার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে স্বদিচ্ছা এবং জনবল। জনবল খাটাতে গেলে কিছু অর্থের প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে পেশাদার লোক দিয়ে কাজ করাতে হলে নিয়মিত অর্থের জোগান থাকা প্রয়োজন। জনসমর্থন আদায়ের মধ্য দিয়ে আর্থিক সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠতে চাই। কোনো কৌশল অবলম্বন করার চেয়ে অকপট হওয়াটাকেই এক্ষেত্রে আমরা সমাধান ভাবছি।  

পত্রিকাটিতে আপনি লেখা পাঠাতে পারেন। চিঠিপত্র হিসেবে পাঠালে আপনার যেকোনো অভিযোগ এবং মন্তব্য হিসেবে আপনার অভিমত আমরা প্রকাশ করব। ‘অাঠারে’ নামে অামাদের একটি অঙ্গ সংগঠন রয়েছে, সেখানে আপনি কাজ করতে পারেন, যুক্ত থাকতে পারেন মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি দেশ গড়ার আমাদের এ দৃঢ় অভিপ্রায় এবং চেষ্টার সাথে। নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে সাথে নিয়ে সফল হব। 


যোগাযোগ: ০১৮৪ ৬৯৭৩২৩২

You may also like...