বাগেরহাটের মনিকা সিনেমা হল: সরকারের সহযোগিতা পেলে হলটি আবার চালু করতে চান মল্লিক মঈনুল ইসলাম

কথা বলছেন মল্লিখ মঈনুল  ইসলাম


বাগেরহাট জেলায় দুটো সিনেমা হল ছিল (পরিত্যাক্ত অবস্থায় এখন আছে), এর মধ্যে মনিকা সিনেমা হলটি প্রতিষ্ঠিত হয় (চালু হয়) ১৯৮৫ সালে। ২০০৭ সাল থেকে এটি আর বাণিজ্যিকভাবে চালু নেই। 

বর্তমানে হলের ভেতরে ভাঙ্গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করছেন হলটির বর্তমান সত্ত্বাধিকারী মল্লিক মঈনুল ইসলাম। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে তিনি সিনেমা হলটি আবার চালু করতে চান।

তবে এক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা তিনি বলেছেন। যেমন, হলটির সামনের ফাঁকা জায়গায় নির্মিত হচ্ছে সড়ক বিভাগের স্ট্যাকইয়ার্ড। এটি নির্মিত হলে হলটি পুনরায় চালু করা খুব মুশকিল হবে বলে মনে করছেন তিনি, কারণ, সেক্ষেত্রে হলটি আড়াল হয়ে একটি ভুতুড়ে রূপ ধারণ করবে। এছাড়া সরকারি পৃষ্ঠাপোষকতা ছাড়া শুধু বাণিজ্যিকভাবে সিনেমা হল পরিচালনার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।

জনাব মঈনুল ইসলাম বলেন, “আমি বিভিন্নভাবে হলটি সচল রাখার চেষ্টা করে একসময় ব্যর্থ হয়েছে। তবে এটি আবার চালু করা সম্ভব। সেটি দুইভাবে হতে পারে। এখন সরকারি অনুদানে অনেক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, সেগুলো সত্ত্ব সরকার নিজের কাছে রেখে হল মালিকদের বিনামূল্যে দিতে পারে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসতে পারে। তারা অগ্রীম টাকা না নিয়ে, টিকিট বিক্রি থেকে টাকা নিতে পারে।

এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা বলা হলে সিনেমা হল আবার চালু হোক এটা চান বলে তারা জানালেন।

এ প্রসঙ্গে বাগেরহাটের সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তি মীর ফজলে সাঈদ ডাবলু বলেন, “সিনেমা হল চালু হলে সেটি শহরবাসীর জন্য ভালো, মানুষের একটি সামাজিক বিনোদনের কেন্দ্র হয়, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সিনেমা হল আর চালু করা সম্ভব কিনা সেটিও ভেবে দেখতে হবে “  

সিনেমা হল চালু হলে সেটির দর্শক হবে মূলত তরুণ প্রজন্ম। ক্লোজঅাপনিউজের পক্ষ থেকে সরকারি পিসি কলেজের তিনজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয়েছে এ বিষয়ে। তারা যা বললেন–


কয়েকটি তথ্য এক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক-

১. সিনেমা হল উন্নয়নে মিলছে ৫০ কোটি টাকা

জাগোনিউজ প্রকাশিত সংবাদ: ০৯:০৫ পিএম, ১৬ মে ২০১৮

অবশেষে চলচ্চিত্রের মন্দাবস্থা কাটাতে সিনেমা হল উন্নয়নে মনোযোগী হচ্ছে সরকার। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সম্মিলিত দাবিতে সাড়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার।

সিনেমা হলের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ আসছে ৫০ কোটি টাকা। আগামী ৬ মাসের মধ্যেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ডিজিটাল হবে ৭-১০টি সিনেমা হল। এ তালিকায় আছে অর্ধশতাধিক হল। ধীরে ধীরে সারাদেশের হলগুলোই ডিজিটালের আওতায় আসবে। বুধবার ‘অফিসার রিটার্নস’ সিনেমার মহরতে এ কথা জানান চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার।

এফডিসি জহির রায়হান ভিআইপি প্রজেকশন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুলজার বলেন, ‘সবাই মিলে চেষ্টা করলে অনেক কিছুই সম্ভব। সেটা প্রমাণ হতে যাচ্ছে। আজকের সিনেমার যে দুরাবস্থা বিরাজমান, তার অন্যতম কারণ সিনেমা হলের নাজুক ও বেহাল দশা। আছে অব্যবস্থাপনাও।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে, ব্যক্তিদের কাছে সিনেমা হলগুলো কুক্ষিগত। একজন নির্মাতা তার সিনেমাকে ইচ্ছেমতো হলে মুক্তি দিতে পারেন না। আর হলে গেলেও নানা দুর্নীতির মুখে প্রযোজক প্রাপ্য টাকা ফেরত পান না। এবার সেই সমস্যার অনেকটাই কেটে যাবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যেই সিনেমা হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ডিজিটাল হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা চলচ্চিত্রের মানুষেরা কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের সমস্যা উপলব্ধি করেছেন এবং তার সমাধানে আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসেছেন। শিগগিরই ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ আসছে সিনেমা হলের উন্নয়নে। আগামী দিনগুলোতে সারাদেশের সিনেমা হল রাষ্ট্রীয়ভাবে আধুনিকায়ন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু আরও যোগ করে বলেন, ‘আধুনিক হলের পাশাপাশি শিগগিরই ই-টিকিটিং ব্যবস্থাও চালু হবে হলগুলোতে। সরকারও দ্রুতই এই ব্যাপারে কাজ শুরু করতে চায়। ফলে কোন হলে কত টাকার টিকিট বিক্রি হলো সেটা যে কেউ ওই হলের ওয়েবসাইটে গিয়ে জানতে পারবেন। প্রযোজকদের আর ফাঁকি দেয়া যাবে না।’

আজকের মহরত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘অফিসার রিটার্নস’ ছবির প্রযোজক আব্দুল বাছেত, নির্মাতা বন্ধন বিশ্বাস, নায়ক নিরব, নায়িকা জলি, অভিনেতা শিমুল খানসহ আরও অনেকেই।

২. সৌদি আরবে দুই সপ্তাহের মধ্যেই চালু হচ্ছে সিনেমা হল

প্রায় কয়েক দশকের বিরতির পর সৌদি আরবের রিয়াদে আবার চালু হয়েছে দেশটির প্রথম সিনেমা হল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে খুলে দেওয়া হয় হলটি। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কেন্দ্র এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়।

একইসঙ্গে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটির প্রায় ২৫টি শহরে ৫০ থেকে ১০০টি সিনেমা হল নির্মাণের লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে।


You may also like...