শেয়ার কী, কেন, কীভাবে ?

শেয়ার কি: শেয়ার (Share) অর্থ অংশ। হিস্যা। ভাগ। পুঁজিবাজারে শেয়ার বলতে একটি কোম্পানির মালিকানার অংশ বিশেষকে বোঝায়। প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মূলধন অনেকগুলো ইউনিটে বিভক্ত থাকে। প্রতিটি ইউনিট একটি শেয়ার।

একটি কোম্পানির কতগুলো শেয়ার থাকবে তা নির্ভর করে ওই কোম্পানির মূলধন কত এবং শেয়ারের অভিহিত মূল্য কত তার উপর। ধরা যাক-এবিসি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। আর তার শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি।
এক শেয়ারহোল্ডার সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কতটুকু মালিক তা নির্ধারতি হয় তার কাছে থাকা ওই কোম্পানির শেয়ার সংখ্যার উপর। একজন বিনিয়োগকারী কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশও পেয়ে থাকেন শেয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে।
তাই বলা যায়, শেয়ার এমন এক ধরনের সিকিউরিটি যা একটি কোম্পানির মালিকানা এবং তার আয় ও সম্পদের ওপর অংশীদারিত্ব প্রকাশ করে। ধরা যাক, সাফকাত ইসলাম এবিসি কোম্পানির ১০ লাখ শেয়ার ধারণ করছেন। তাই তিনি কোম্পানিটির এক দশমাংশের মালিক (১,০০,০০০০০/১০০০০০০=১০%)।
যুক্তরাজ্য, ভারত ও বাংলাদেশসহ অনকে দেশে এটি শেয়ার নামে পরিচিত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশে একে বলা হয় স্টক।
শেয়ারের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। একে শেয়ার সার্টিফিকেট বলে।
শেয়ার অনেক ধরনের হতে পারে। তবে এর প্রধান দুটি ধরণ হচ্ছে কমন শেয়ার ও প্রেফারেন্স শেয়ার। দুই ধরনের শেয়ারহোল্ডারই কোম্পানির কিছু অংশের মালিক।

কমন শেয়ারের ক্ষেত্রে ওই শেয়ারের মালিক কোম্পানির লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন, আবার তিনি সাধারণ সভা এবং বিশেষ সাধারণ সভায় ভোটও দিতে পারেন।
প্রেফারেন্স শেয়ারে মালিক লভ্যাংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। এমনকি কোম্পানি কোন কারণে দেওলিয়া হয়ে গেলে বা কোম্পানির অবসায়ন ঘোষণা করা হলেও তিনি তার পাওনার বিষয়ে অগ্রাধিকার পান। তবে এ ধরনের শেয়ারধারীদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না।

প্রেফারেন্স শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রাপ্য লভ্যাংশ আগেই নির্ধারণ করা থাকে। কিন্তু কমন বা অর্ডিনারি শেয়ারের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ কম-বেশি হতে পারে। এমনকি কোনো বছর মুনাফা অর্জন সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ ঘোষণা নাও করতে পারে। তবে সাধারণত কোম্পানির ব্যবসা তথা মুনাফা যত ভাল হতে থাকে লভ্যাংশের পরিমাণ তত বাড়তে থাকে।

কোম্পানির পারফরমেন্স ভাল হলে লভ্যাংশের হার বেড়ে যায় বলে বাজারে কমন শেয়ারের দামও বাড়ে। তাই এ শেয়ারে মূলধনী মুনাফার ভাল সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু প্রেফারেন্স শেয়ারের লভ্যাংশ নির্ধারিত থাকে বলে এতে মূলধনী মুনাফার তেমন সম্ভাবনা বা সুযোগ থাকে না।

অনেক ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর প্রেফারেন্স শেয়ারের অংশবিশেষ বা পুরোটা সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ থাকে। সেটি সাধারণ শেয়ারের অভিহিত মূল্যেও হতে পারে। আবার বিশেষ মূল্যেও হতে পারে।  প্রেফারেন্স শেয়ার বা অগ্রাধিকার শেয়ার কি দামে সাধারণ শেয়ার বা অর্ডিনারি বা কমন শেয়ারে রূপান্তরিত হবে তা ওই প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবে উল্লেখ করা থাকে।

অনেক দেশে কমন শেয়ারের মত প্রেফারেন্স শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা হয়। তবে বাংলাদেশে শুধু কমন শেয়ারই লেনদেনযোগ্য।

শেয়ার বাজার কি: যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শূলধন সংগ্রহ ও বিতরণে নিয়জিত রয়েছে বা শেয়ারের মালিকানা ক্রয় বিক্রয়ে নিয়োজিত তাদের সমন্ময়ে পুজিবাজার বা শেয়ার বাজার গঠিত। সিকিউরিটি মার্কেটকে ব্যাপক অর্থে পুঁজিবাজারও বলা হয়। শেয়ার বাজারে সরকারি ও বেসরকারি এবং বিভিন্ন প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানির শেয়ার-এর লেনদেন হয়ে থাকে

প্রাইমারি শেয়ারঃ

বাজারে কোনো কম্পানি প্রথমে প্রাইমারি শেয়ারের মাধ্যমে প্রবেশ করে। অর্থাৎ নতুন কোনো কম্পানিকে বাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে তাকে প্রথমে প্রাইমারি শেয়ার ছাড়তে হবে। শোনা যায় সবাই বলে প্রাইমারি শেয়ারে কোন লস নাই। সেকেন্ডারি শেয়ারে প্রচুর রিস্ক। এরকম কথা তারা কেন বলে আসুন জেনে নেই। প্রতিটি কম্পানির শেয়ারের একটা ফেস ভ্যালু থাকে। কম্পানি যখন তার শেয়ারটি মার্কেটে ছাড়তে চায় তখন সে ফেস ভ্যালুর সাথে প্রিমিয়াম যোগ করে একটি নির্দিষ্ট টাকায় শেয়ারটি অফার করে। এসইসি যদি অনুমোদন দেয় তবে তারা তাদের শেয়ার কেনার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করে। যাকে আমরা IPO/আইপিও বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফার বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বলে থাকি।

ধরা যাক কোনো কম্পানির ফেস ভ্যালু ১০ টাকা এবং তারা ৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ শেয়ারের দাম নির্ধারণ করল ১৫ টাকা। এখন আপনি যদি ওই শেয়ার IPO এর মাধ্যমে পেয়ে থাকেন তবে আপনার প্রতি শেয়ারে দাম পরে ১৫ টাকা। আপনি এখন ইচ্ছা করলে এই শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করতে পারবেন। সাধারণত দেখা যায় প্রাইমারি শেয়ারের যে দাম তার তুলনায় সেকেন্ডারি মার্কেটে এর দাম বেশি হয়ে থাকে। আপনার শেয়ারটি যদি সেকেন্ডারি মার্কেটে ২৫ টাকায় ওপেন হয় তবে আপনি তখন বিক্রি করলে প্রতি শেয়ারে ১০ টাকা লাভ পেয়ে যাবেন। আপনি যদি মনে করেন এই কম্পানি সামনে আরও ভালো করবে তবে প্রাইমারিতে প্রাপ্ত শেয়ার আপনি অনেক দিন ধরেও রাখতে পারেন পরবর্তীকালে বেশি দামে বিক্রির জন্য। আবার ধরুন আপনি যে কম্পানির প্রাইমারি শেয়ার কিনতে চাচ্ছেন তার প্রিমিয়াম অনেক বেশি। তাহলে সেকেন্ডারি মার্কেটে আপনি যে দামে শেয়ার কিনেছেন তার তুলনায় দাম কমেও ওপেন হতে পারে। তাই প্রাইমারি শেয়ার মানেই লাভ না মনে করে কম্পানিটি কী দামে শেয়ার ছাড়ছে  এবং কম্পানির আয় কেমন অর্থাৎ কম্পানিটি ভালো কি না তা যাচাই করে কিনুন।

সেকেন্ডারি শেয়ারঃ

প্রাইমারি শেয়ার যখন কেউ বিক্রি করে দেয় তখন তা সেকেন্ডারি শেয়ারে পরিণত হয়। সেকেন্ডারি শেয়ার বাজারে ব্যবসা করতে হলে আপনার শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। অর্থাৎ, আপনাকে ব্যবসা করার জন্য ফান্ডামেন্টাল প্লাস টেকনিক্যাল এনালাইসিস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এ ধারণা অর্জন করতে পারলে শেয়ার ব্যবসায় আপনি ভালো লাভ করতে পারবেন। আর আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারে ব্যবসা করেন এবং একে পেশা বা বাড়তি ইনকামের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করতে চান তবে সেকেন্ডারি মার্কেট খুবই উত্তম জায়গা।

সূত্র: অর্থসূচক

You may also like...