পিওর ইট (pure it) পানির ফিল্টার যেভাবে কাজ করে, এবং মোট খরচের হিসেব

অনেকেই হয়ত ইউনিলিভারের এই পণ্যটি (পানির ফিল্টার) কিনেছেন বা কিনবেন। কিন্তু বেশিরভাগ লোকই এই ফিল্টারটির ব্যবহারবিধি জানেন না। অনেকেই মনে করে ফিল্টারটি কিনলেই কাজ শেষ। আসলে এটি একটি পাত্র মাত্র, যেটির সাথে রয়েছে কতগুলো আনুষাঙ্গিক উপকরণ, যেগুলোর সমন্বিত মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ হয়।

যন্ত্রটির শুধু খাঁচাটি আপনি যতদিন খুশি ব্যবহার করতে পারবেন, বাকী উপাদানগুলি আপনাকে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর পর পাল্টাতে হবে। তাই ২৯৯০টাকা দিয়ে একটি ‘পিওর ইট’ কিনে এটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে আপনি এখন নিশ্চিন্তে ফিল্টারটিতে পানি ঢালবেন আর যত ইচ্ছে ব্যবহার করবেন।

কারণ, ‘পিওর ইট’ শুধু যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফিল্টার করে না, এটাতে রয়েছে একটি হ্যালোজেন ট্যাবলেট দেওয়া, যেটি মূলত পানির জীবানু মারে। এটির কল্যাণেই বিজ্ঞাপনে তারা বলে থাকে যে ‘পিওর ইট’ ফুটানো পানির চেয়েও নিরাপদ।

বিষয়টি নতুন কিছু নয়, হ্যালোজেন গ্রুপের (ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন) যেকোনো মৌল পানিতে যোগ করলে পানি বিশুদ্ধ হয়। বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণের সাথে এজন্য হ্যালোজেন ট্যাবলেট নিয়ে যাওয়া হয়।

‘পিওর ইট’ এই জিনিসটাকেই বলছে ‘জার্মকিল প্রসেসর’। এটি যেহেতু একটি কেমিকেল উপাদান এবং তা ক্রমাগতভাবে পানির সাথে মিশে জীবানু হত্যা করছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এটি ফুরিয়ে যাবে। এটি ফুরিয়ে গেলে ফিল্টারটি অটো ফিল্টার করা বন্ধ করে দেবে।

ফুরিয়ে গেছে কিনা সেটি বোঝা যাবে ছবিতে চিহ্নিত বড় ফুটোটি দেখে। সেটি পুরোপুরি লাল হয়ে যাওয়ার মানে হচ্ছে ভেতরের ক্লোরিন ট্যাবলেটটি শেষ হয়ে গিয়েছে।

germkill processor

তবে জিনিসটি আবার কিনতে পাওয়া যায়। এটি আছে দুই প্রকার– ছোটটি ১৫০০লিটার পানি ফিল্টার করতে পারে, এবং বড়টি ফিল্টার করতে পারে ৩০০০লিটার পানি।

পুনরায় কিনতে গেলে ছোটটি কিনতে লাগবে ৭০০টাকা এবং বড়টি কিনতে লাগে ১২০০ টাকা। সাথে কার্বন ট্রাপটিও নিতে হয়, অর্থাৎ শুধু এটি কেনা যায় না।

ফলে শুধু জার্মকিল প্রসেসরটি

ইউনিলিভার

ক্লোরিন শেষ হয়ে গেলে এই সেটটি আবার কিনতে হয়।

বা হ্যালোজেন ট্যাবলেটের ঐ খাপটি ইউনিলিভারের নামে নকলও বেরিয়েছে, যেটির গায়ে দাম লেখা আছে ৬০০টাকা। তবে সেটি নকল। ইউনিলিভার এটি বের করে না।

ফিল্টারটিও মূলত আসে ভারত থেকে। অর্থাৎ পিওর ইট ফিল্টারের কারখানা বাংলাদেশে নেই। ঐ নকল পণ্যটিও ভারত থেকে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

এবার আসা যাক পিওর ইটের পানি ফিল্টার করার পদ্ধতি বিষয়ে। কোম্পানি বলছে চার ধাপে তাদের ফিল্টারটি পানি বিশুদ্ধ করে থাকে। 

জেনে নেয়া যাক, কীভাবে সেটি আসলে যন্ত্রটি  করে। শুরুতে যে ছাঁকনিটি রয়েছে সেটিকে তারা বলছে ‘মাইক্রোফাইবার ফিল্টার’ যেটি দৃশ্যমান ময়লাগুলো ছেকে রেখে দেয়।

এরপর পানি পৌঁছায় এক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টারে, যেটি সকল ক্ষতিকর জীবানু মেরে ফেলে বলে বলা হয়ে থাকে। এরপর পানি যেতে হয় জার্মকিল প্রসেসরের মধ্য দিয়ে, যেখানে ক্রমাগতভাবে কেমিকেলটি নিঃসরিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই চেম্বারে সকল ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস মারা পড়ে।

এরপর এটি পৌঁছায় ‘ক্যালারিফায়ার’ নামক একটি ডিভাইসের গায়, যেটি ক্লোরিন হজম করে রাখে এবং পানিতে কোনো গন্ধ থাকলে সেটিও এটির মাধ্যমে মুক্ত হয় বলে দাবি করে থাকে ইউনিলিভার। সবশেষে স্বচ্ছ পানি এসে জমা হয় নিচের সংগ্রহশালায়, যেখান থেকে ট্যাপের মাধ্যমে পানি ঢেলে খাওয়া হয়।

আসা যাক খরচখরচা বিষয়ে। ইউনিলিভারের ফিল্টারের মাধ্যমে যদি আপনি পানি বিশুদ্ধ করে খেতে চান, তাহলে আপনার প্রাথমিক বিনিয়োগ করতে হবে ২৯৯০টাকা। তবে কিছুদিন পরপর খরচ আছে।

ধরা যাক, আপনার পরিবারে প্রতিদিন পানি লাগে ১০লিটার। তাহলে ১৫০০লিটার পানিতে আপনার যাবে ১৫০দিন। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে বছরে অন্তত দুইবার আপনাকে জার্মকিল কিটটি কিনতে হবে, যে বাবদ খরচ হবে ১৪০০টাকা।

উপরের মাইক্রো ফাইবার ছাঁকনিটিও কিছুদিন পরপর পরিবর্তন করতে হয়, ওটির দাম ২০০টাকা। বছরের ৪বার পরিবর্তন করলে ছাঁকনি বাবদ খরচ হবে আরও ৮০০টাকা। তাহলে মোট খরচ হবে ২২০০টাকা। তাই ফিল্টারটি কেনার সময় খরচের এই হিসেবটিও মাথায় রাখতে হবে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *