গান শোনার পনেরোটি বিস্ময়কর উপকারিতা

মাইকেল চ্যাপেল, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোলজিতে পিএইচডি প্রাপ্ত, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন গীতিকার, শিল্পী এবং লেখক। তিনি বলেন–

আপনার যদি গান শোনার অভ্যেস থাকে, তাহলে জানবেন, আপনি খুব ভালো একটি অভ্যাসে আছেন। আমি যদি আবার একটি জীবন পেতাম, তাহলে সবাইকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার গান এবং কবিতা শোনার অভ্যেস করার আইন করতাম।

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, আমি যদি পদার্থ বিজ্ঞানী না হতাম, তাহলে সঙ্গীতজ্ঞ হতাম। আমেরিকান রক গিটারিস্ট, সঙ্গীত লেখক এবং শিল্পী জিমি হেনড্রিক্স বলেন, সঙ্গীতই আমার ধর্ম। যারা গান করে এবং গীটার বাজায় আমি সবসময় তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকি। আমি গান শুনতে শুনতে সকালে ঘুম থেকে উঠি।

গবেষকরা দেখেছেন, সঙ্গীত আমাদের শরীর ও মন সুস্থ করে। সঙ্গীত আইকিউ এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।

১. গান আপনাকে সুখী করে

দার্শনিক এবং মনোবিদ উইলিয়াম জেমস বলেন, “আমি গান গাই না, কারণ, আমি সুখী; আমি সুখী, কারণ, আমি গান গাই।”

গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, মানুষ যখন গান শোনে তখন তার মস্তিষ্ক থেকে ডোমাপিন ক্ষরিত হয়, যা স্নায়ুর মধ্যে সুখানুভূতি তৈরি করে।

২. সঙ্গীত কাজের গতি বাড়ায়

এটা প্রমাণিত হয়েছে যে গান শুনতে শুনতে দ্রুত হাঁটা যায়, দৌঁড়ানো যায়, দ্রুত কাজ করা যায়।

৩.  সুর মানসিক চাপ কমায় এবং স্বাস্থ্য উন্নত কর

সঙ্গীত এবং সুর ব্যথা উপশম করে, মানুষের ভেতর থেকে মানবিক সত্তা বের করে আনে। সকল সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেই রয়েছে সুরের মেলা, যখন কেউ গান শোনে তখন ব্যক্তির অজান্তেই তার মধ্যে সৌকর্য তৈরি হয়।

৪. সঙ্গীত-সুর সুন্দর ঘুম এনে দেয়

জার্মান কবি বার্থাল্ড অর্চবাচ বলেন, “সঙ্গীত প্রতিদিন হৃদয়ে জমা হওয়া ধুলি-ময়লা দূর করে।”

ঘুমোতে যাওয়ার ত্রিশ থেকে পয়তাল্লিশ মিনিট আগে যারা সুন্দর গান শুনে ঘুমোতে যায় তাদের ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫. সঙ্গীত-সুর বিষন্নতা কমায়

পৃথিবীতে অন্তত চল্লিশ কোটি লোক বিষন্নতায় ভুগছে, এর মধ্যে বেশিরভাগের রয়েছে ‍ঘুমের সমস্যা। ধ্রপদী সঙ্গীত মানুষের বিষন্নতা কাটিয়ে ঘুমোতে সহায়তা করে।

৬. সঙ্গীত-সুর মানুষকে অধিক খাওয়া হতে বিরত রাখে

ইংলিশ ঔপন্যাসিক থমাস হার্ডি বলেছেন, “খাওয়ার সাথে সঙ্গীত ও সুরের সম্পর্ক রয়েছে।”

জর্জিয়ার গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, খাওয়ার সময় সুন্দর সুর চালিয়ে রাখলে খাওয়াটা আরো উপভোগ্য হয়, এবং মানুষ পরিমিত খায়।

৭. গাড়ী চালানোর সময় শরীর-মন চাঙ্গা রাখে

লোকসঙ্গীত শিল্পী এবং সুরকার এলিসন ক্রস বলেন, “এজন্য আমি ভালোবাসি। কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া বৃষ্টির দিনে যখন গাড়ির মধ্যে আমি একা গান শুনি। এখনো যে অনেক মহৎ সুর শুনতে বাকী।”

নেদারল্যান্ডে একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, গান শুনতে শুনতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে না, বরং তা কমে।

৮. শেখার ক্ষমতা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

আমেরিকান বেস্ট সেলার বইয়ের লেখক জডি পিকুল্ট বলেন, “সুর আমাদের স্মৃতির ভাষা।”

গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, সুর শিখতে এবং মনে রাখতে সহায়তা করে।

৯. অপারেশনের রোগীকে প্রশমিত রাখে

স্প্যানিশ লেখক মিগুয়েল ডি সারভেনটিস বলেন, “গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা দুঃখ ভুলে থাকি।”

১০. সঙ্গীত-সুর শরীর এবং মনের ব্যথা কমায়

বব মারলে ‘র একটি চমৎকার উক্তি আছে– “সঙ্গীত যখন অন্তরে প্রবেশ করে তখন আর কোনো দুঃখ থাকে না।”

১১. আলজেইমার আক্রান্ত রোগীর স্মৃতিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে

জগৎবিখ্যাত স্নায়ু বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ অলিভার স্যাকস্ বলেছেন, “যখন স্মৃতি ফেরানোর আর কোনো উপায় থাকে না, অনেক সময় সুর ও সঙ্গীত স্মৃতি ফিরিয়ে দিতে পারে।”

১২. স্ট্রোকের শিকার রোগীকে দ্রুত আরোগ্য লাভে সঙ্গীত-সুর সহায়তা করে

মার্কিন কবি মায়া এনজেলু বলেছেন, “আমি জানি কেন খাঁচার পাখি গান গায়।”

হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, স্ট্রোক আক্রান্তরা গান শুনলে তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।

১৩. সঙ্গীত ভাষাগত দক্ষতা বাড়ায়

আমেরিকান রক ব্যান্ড ‘মডেস্ট মাউস’ একটি স্লোগান ব্যবহার করে—

“Music is to the soul what words are to the mind.”

ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ৪ থেকে ৬ বছয় বয়সী শিশুদের গান শুনতে দিয়ে এবং না দিয়ে দেখেছেন, যেসব শিশুদের নিয়মিত গান শুনতে দেওয়া হয়েছে তাদের ভাষাগত দক্ষতা অন্যদের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।

১৪. সঙ্গীত-সুর আইকিউ বাড়ায়, শিক্ষা সহজ করে

আইরিশ গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী বনো বলেছেন, “সঙ্গীত দ্বারা আমরা পৃথিবীটা বদলাতে পারি, কারণ, সঙ্গীত মানুষকে পরিবর্তন করে।”

গবেষণায় দেখা গেছে শিশু বয়সে গান শুনলে তার বোধগম্যতা বৃদ্ধি পায়।

১৫. সঙ্গীত-সুর বৃদ্ধ বয়সে মাথা ঠাণ্ডা রাখে

আলজেরিয়ান লেখক ইয়াসমিনা খাদরা বলেছেন, “আমরা খাই যাতে আমরা মারা না যাই, আমরা গান শুনি যাতে আমরা নিজের ভেতরের সুর শুনতে পাই।”

সঙ্গীত-সুর মানুষের অন্তর্গত আচরণ উন্নত করে, যৌক্তিক করে।


কপিরাইট: দিব্যেন্দু দ্বীপ

You may also like...