সরকারি ছুটি কোন দেশের সবচে’ বেশি?

সবথেকে কম ছুটি পায়…

ক্যানাডার মানুষ৷ সেখানে শ্রমিক-কর্মীরা বছরে মাত্র ১০ দিন ছুটি পান৷ সেইসঙ্গে বছরে ৯টি সরকারি ছুটির দিন রয়েছে৷ অ্যামেরিকার ‘মার্সার’ নামের প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে কর্মীদের প্রাপ্য ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনের তালিকা তুলনা করে দেখেছে৷

ক্যানাডার তুলনায় চীন একটু এগিয়ে

ক্যানাডার মতো চীনেও বছরে মাত্র ১০ দিন ছুটির আবেদন করা যায়৷ তবে সরকারি ছুটির দিনের সংখ্যা ১১টি৷ ছুটি কিন্তু মাঠে মারা যায় না৷ শনি-রবিবার সেই দিন পড়লে সাধারণত সোমবারই সেই ছুটি নেওয়া যায়৷

অ্যামেরিকায় ছুটির অধিকারই নেই

বাসন ধোঁয়ার কাজ করে কোটিপতি হবার বাসনা থাকলে কঠিন পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত হতে হয়৷ পশ্চিমা বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে অ্যামেরিকায় ছুটি নেবার কোনো অধিকারই নেই৷ বছরে ১০টি সরকারি ছুটির দিন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়৷ তবে প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের কর্মীদের বছরে গড়ে ১৫ দিন ছুটি দিয়ে থাকে৷

ছুটির দেশ ভারত

স্বাধীনতা দিবস, বড়দিন উৎসব, মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবস – সব মিলিয়ে বছরে ১৬টি সরকারি ছুটির দিন রয়েছে৷ ‘মার্সার’-এর তথ্য অনুযায়ী অন্য কোনো দেশে এত দিন ছুটি পাওয়া যায় না৷ সেই সঙ্গে বছরে ১২ দিন ছুটির আবেদন করার অধিকার রয়েছে৷

জার্মানি নিজেকেই টেক্কা দেয়

জার্মানির মানুষের আনন্দের কারণ রয়েছে৷ আইন অনুযায়ী বছরে ২০ দিন ছুটির অধিকার থাকা সত্ত্বেও ‘কম্পেনসেশন পার্টনার’ সংস্থার হিসেব অনুযায়ী জার্মানরা বছরে ২৭ দিন ছুটির আবেদন করতে পারেন৷ সেইসঙ্গে রাজ্য অনুযায়ী বছরে ৮ থেকে ১১টি সরকারি ছুটির দিনও রয়েছে৷

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩৩ দিন ছুটি

বছরে তিন সপ্তাহ ছুটি এবং ১২টি সরকারি ছুটির দিন – দক্ষিণ আফ্রিকার আইনে এই অধিকার নিশ্চিত করা আছে৷ তবে বাস্তবে সবাই সেই সুযোগ পায় না৷ পর্যটন, বিপণী ও রেস্তোরাঁ ছুটির দিনেও খোলা থাকে৷

পঞ্চম স্থানে ব্রিটেন

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার বলে গিয়েছিলেন, ‘‘সারা বছর ছুটি থাকলে আনন্দও কাজের মতো একঘেয়ে হয়ে পড়তো৷’’ ব্রিটিশরা অবশ্য সেই ‘বিপদ’ থেকে দূরে৷ বছরে ২৮ দিন ছুটির আবেদন করতে পারে তারা৷ সরকারি ছুটির দিন যোগ করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৩৬৷ ছুটির ক্ষেত্রে উদারতার তালিকায় ব্রিটেন পঞ্চম স্থানে রয়েছে৷

রৌপ্য পদকের দাবিদার ফিনল্যান্ড

ফিনল্যান্ডের মানুষ বছরে কমপক্ষে ৩০ দিন ছুটির আবেদন করতে পারেন৷ কিছু কোম্পানি গোটা জুলাই মাস জুড়ে বন্ধ থাকে, কারণ ক্রেতা বা গ্রাহকরাও সে সময় ছুটি উপভোগ করেন৷ সেইসঙ্গে রয়েছে ১০টি সরকারি ছুটির দিন৷ তাই ফ্রান্স ও রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ড যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানের দাবিদার৷

তালিকার শীর্ষে দুই দেশ

‘মার্সার’ তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করেছে ব্রাজিল ও লিথুয়ানিয়া৷ বছরে মোট ৪১ দিন ছুটি উপভোগ করতে পারেন এই দুই দেশের মানুষ৷ ব্রাজিলের কর্মীরা ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্সের মানুষের মতোই বছরে ৩০ দিন ছুটির আবেদন করতে পারেন৷ ব্রাজিলে শুধু একটি বাড়তি সরকারি ছুটির দিন রয়েছে৷ লিথুয়ানিয়ায় ২৮ দিনের পাওনা ছুটি ও ১৩টি সরকারি ছুটির দিন রয়েছে৷

সূত্র: DW

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someonePrint this page

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *