এসএমই ঋণ পেতে হলে

ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমানে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া সহজ হয়েছে। এসএমই ঋণ নিতে গেলে বেশ কিছু হালনাগাদ কাগজপত্র দরকার হয়, না হলে ঋণ পাওয়া যায় না।

এসএমই (স্মল এন্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ) ঋণ কী?

ক্ষুদ্র এবং মাঝারী শিল্পের বিকাশে এবং মান উন্নয়নে ব্যাংক যে ঋণ প্রদান করে থাকে সেটিই এসএমই ঋণ।

এসএমই ঋণ প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা:
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যা্ংকের নির্দেশনা রয়েছে- যে কোনো ব্যাংক অবশ্যই তার মোট প্রদেয় ঋণের ২০শতাংশ এসএমই ঋণ দেবে। সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ পাওয়া সহজ হয়েছে। এসএমই ঋণ নিতে গেলে বেশ কিছু হালনাগাদ কাগজপত্র দরকার হয়, না হলে ঋণ পাওয়া যায় না। অনেকেরই ঠিকমত ধারণা না থাকার কারণে লোন পেতে অসুবিধা হয়। ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই ঋণ আবেদনকারীদের কাছ থেকে যেসব কাগজপত্র নিয়ে থাকে তার একটি তালিকা এখানে দেওয়া হয়েছে।

  • ƒ নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্স।
  • ƒ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে চলতি হিসাব।
  • ƒ বিগত ১ থেকে ৩ বৎসরের ব্যাংক প্রতিবেদন (ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকের চাহিদা ভিন্ন হতে পারে)।
  • ƒ জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • ƒ দোকান/ঘর/অফিশ ভাড়া চুক্তিনামা।
  • ƒ জায়গা নিজের হলে পজিশনের দলিল।
  • ƒ টিন সার্টিফিকেট।
  • ƒ বিদ্যুৎ বিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • ƒ টেলিফোন বিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • ƒ সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট।
  • ƒ কর্মচারীদের নাম, পদবী, এবং মাসিক বেতনের তালিকা।
  • ƒ মজুদ মাল ও তার বর্তমান মূল্যের তালিকা।
  • ƒ স্থায়ী সম্পদের তালিকা ও মূল্য।
  • ƒ দেনাদারের তালিকা।
  • ƒ পাওনাদেরর তালিকা।
  • ƒ অন্য কোথাও ঋন থাকলে তার বিবরণী।
  • ƒ বাংলাদেশ ব্যাংকের CIB রিপোর্ট,  উলেখ্য, এই রিপোর্টের ফরম সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তাকে সরবরাহ করে এবং উদ্যোক্তা উক্ত ফরম সঠিকভাবে পূরন করে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিপোর্ট সংগ্রহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।
  • ƒঋণের আবেদনকারী এবং গ্যারান্টর উভয়ের পাসপোর্ট সাইজ ছবি। উল্লেখ্য যে, ব্যাংক তার প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গ্যারান্টর নিতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠানই মূল গ্যারান্টরের অতিরিক্ত গ্যারান্টর হিসেবে পরিবারের সদস্যকে গ্যারান্টর হিসেবে নিয়ে থাকে।
  • ƒগ্যারান্টার ব্যবসায়ী হলে তার ট্রেড লাইসেন্স ও CIB রির্পোট ।
  • ƒব্যবসার বিগত ১ বৎসরের বিক্রয় ও লাভের হিসাব বিবরনী।
  • ƒপ্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন এবং মেমোরেন্ডাম অব আর্টিক্যালস ।
  • ƒপ্রাইভেট লিমিটডে কোম্পানীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্তের রেজুলেশন।
  • ƒলিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে অডিটকৃত আর্থিক বিবরণী, ট্রেড একাউন্ট, লাভ-ক্ষতির হিসাব, ব্যালেন্স শীট ইত্যাদি।
  • ƒলিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে কোম্পানীর বর্তমান গ্রাহকদের তালিকা।
  • ƒপার্টনারশীপ ব্যবসার ক্ষেত্রে Join Stock Company থেকে রেজিষ্টার্ড এবং নোটারী পাবলিক দ্বারা নোটারাইজড পার্টনারশীপ ডীড।
  • ƒঋণ গ্রহন/ হিসাব খোলার জন্য পার্টনারদের রেজুলেশন।
  • ƒ ড্রাগ লাইসেন্স (ঔষধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য)।
  • ƒ বিএসটিআই সার্টিফিকেট (খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে )।
  • ƒ ডিসির অনুমোদন (ডিজেল ও এসিড ব্যবসার ক্ষেত্রে)।
  • ƒ পেট্রোবাংলার সার্টিফিকেট (ডিজেল ও অকটেন ব্যবসার ক্ষেত্রে)।
  • ƒ ভ্যাট সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • ƒ IRC ও IRE সার্টিফিকেট (আমদানী ও রপ্তানী ব্যবসার ক্ষেত্রে)।

উল্লেখিত কাগজপত্র সমস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণের জন্য প্রয়োজন হয়। এছাড়াও নির্দিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনবোধে ঋণ আবেদনকারীর কাছ থেকে অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

You may also like...

1 Response

  1. modelcam says:

    Hey, thanks for the blog post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *