উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে আপনি লোন পেতে পারেন যেভাবে

একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে শিল্প কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনা এবং ইন্সুরেন্সের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হচ্ছে, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের ঋণ ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।

উদ্যোক্তা হিসেবে শিল্প কারখানা পরিচালনার জন্য কিছু নিয়মনীতি অনুসরন করতে হয়, পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকেও নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়।

দেখা যায়- উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিয়মকানুন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অহেতুক অসুবিধার সম্মুখীন হয়। সম্প্রতি দেশের অনেক সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান শিল্পোদ্যোক্তা বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণ ও অর্থায়নের সুবিধা প্রদানের জন্য এসএমই ব্যাংকিং ব্যাবস্থা চালু করেছে। অনেক ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে।

ব্যাংক হতে ঋণ নিতে হলে : ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে আমাদের দেশে সাধারণ মর্টগেজ বা কোলাটেরাল লাগে। তাবে চলমান ব্যবসা থাকলে ব্যবসার উপর লোন পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের নামে একাউন্ট থাকতে হবে, একাউন্টে সন্তোষজনক লেনদেন থাকতে হবে, টার্নওভার দেখাতে হবে এবং ট্রেড লাইসেন্স-এর বয়স দুই বছর হতে হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ নিতে হলে : আগে সেই প্রতিষ্ঠানে একটি এফডিআর করে নিতে হয়। সাধারণত এফডিআর-এর পরিমাণ লোনের চাহিদার অর্ধেক হয়। এরপর অন্যসব কাহজপত্র ঠিক থাকলে ব্যাবসার টার্নওভার (প্রফিট এবং লেনদেন) -এর উপর ভিত্তি করে ঋণ দেওয়া হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে সাধারণ খুব ছোট ঋণ দেওয়া হল। অামাদের দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সর্বনিম্ন পাঁচ লক্ষ টাকা লোন দিয়ে থাকে।

ব্যাংক একাউন্ট খোলা
ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য পছন্দ মত ব্যাংক হতে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে। বিভিন্ন ব্যাংকে এই কাগজপত্রের চাহিদা ভিন্ন রকমের হয়। এছাড়া নিয়মের কিছু কিছু ক্ষেত্রেও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। ব্যবসার নামে একাউন্ট খুলতে হলে ট্রেড লাইসেন্স লাগে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
১. ব্যাংক কর্তৃক সরবরাহকৃত ফরমে ব্যাংক একাউন্ট করার দরখাস্ত ।

২. দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৩. হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স এর সত্যায়িত কপি।

৪. লিমিটেড বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হলে বোর্ড অব ডাইরেক্টরস-এর রেজুলেশন কপি অর্থাৎ ব্যাংক একাউন্ট খোলার সিদ্ধান্তসহ কে কে ব্যাংক একাউন্ট অপারেট করবেন তাদের নাম উল্লেখসহ গৃহীত সিদ্ধান্তের কপি।

৫. সার্টিফাইড Join Stock থেকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র (Certificate of Incorporation) (লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে)।

ট্রেড লাইসেন্স : ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার দায়িত্ব, এটা তাদের উপার্জনও। তাই যারা ভাবছেন ট্রেড লাইসেন্স করা খুব কঠিন এবং এজন্য দালালের স্মরণাপন্ন হতে হয়, তারা ভুল ভাবছেন। নিজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র- দুই কপি ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, নিয়ে চলে যান, সাধারণত এক দিনেই ট্রেড লাইসেন্স করা যায়।

ব্যবসাভেদে ফি বিভিন্ন হয়ে থাকে। তবে ট্রেড লাইসেন্স-এ নবায়ন ফি কত লেখা হচ্ছে সেটি খেয়াল রাখবেন। আপনি এজেন্ট হবেন, দোকানদার, নাকি কোম্পানি খুলছেন, সেটি নিশ্চিত হয়ে নেবেন। অনেক সময় যারা লাইসেন্স করে দিচ্ছে, অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্বে আছে, হতে পারে তারা না বুঝে এমন একটা কিছু লিখে ফেলল যে পরে ঐ ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে আপনি ব্যবসা বাড়াতে পারছেন না। তাই অফিশ আদালতের কাজ সবসময় বুঝে শুনে করাই ভালো।

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someonePrint this page

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *